শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ ,২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
০৪ জুলাই ২০১৮ বুধবার , ৭ : ১৮ অপরাহ্ন

  • হঠাৎ স্কুলে এডিসি, তালা মেরে পালালেন সেই আমজাদ হোসেন

    x

    Decrease font Enlarge font

    03টাইমস নারায়ণগঞ্জ: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের আকস্মিক স্কুল পরিদর্শনে আসার খবর পেয়ে নিজ কক্ষে তালা মেরে পালিয়ে গেলেন দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত কানাইনগর ছোবহানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন।

    বুধবার (৪ জুলাই) কানাইনগর ছোবহানীয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রেজাউল বারী। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এলাকাবাসীর দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার সরেজমিন স্কুলটি পরিদর্শনে আসেন রেজাউল বারী।

    এসময় তিনি স্কুলের দৈনন্দিন হাজিরা-খাতা, স্কুলের অবকাঠামো ও আনিত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেন। তিনি শিক্ষক, এলাকাবাসী, শিক্ষার্থী ও এলাকার গণমান্যদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলেন।

    এ প্রসঙ্গে রেজাউল বারী উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের প্রত্যেকটি বিষয় সর্ম্পকে বিস্তারিত খোঁজÑখবর নেয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

    তিনি জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি তদন্ত দলকে ইতোমেধ্যে দায়িত্ব দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো: রাব্বী মিয়া।

       

    এর আগে স্কুলের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ পপ্রসঙ্গে বলেছিলেন- কিছু সুবিধাবাদী লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আমাকে হেয় করতেই এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু বুধবার নিজ কক্ষে তালা মেরে পালিয়ে যাবার পর থেকে বেশ কয়েকবার তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

    01আমজাদ মাস্টারের দূর্নীতিতে রূপকথাকেও হার মানায়

    ‘যে শিক্ষক মানুষ গড়ে/ সে কী আবার দুর্নীতি করে?’-এ স্লোগানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এ প্রশ্নের উত্তর-ই শুধু দেননি স্থানীয়দের বিস্মিত করেছেন কানাইনগর ছোবহানীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন। ৯ বছরের মেয়াদকালে তাঁর দুর্নীতির খতিয়ান যেন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়।

    স্কুলটির সাবেক শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দুর্নীতির এ মহাকা-! অনিয়ম দূর্নীতি শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি তাঁর মেয়দকালে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ ৬০ হাজার ১শত ৬৭ টাকা দূর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।

    এ কারণে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেনের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্নখাতে তাঁর দুর্নীতির খতিয়ান জনসম্মুখে প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন-বিদ্যালয়ের ১৯৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। এ দাবিতে এলাকায় বেশ কয়েক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ’৯৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

    আন্দোলনকারীদের দেয়া তথ্যমতে, আমজাদ হোসেন স্কুলের পূন:ভর্তি বাবদ ৩২ লক্ষ ৭৬ হাজার, বিলম্ব অনুপস্থিত বাবদ ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, খেলাধুুলা খাতে ৯ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা, নির্মাণ খাতে ৯ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, গ্রায়াচুটি বাবদ ১২ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিল বাবদ ৮ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা, মিলাদ বাবদ ৮ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা, দূস্থ: তহবিলের ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, পাঠাগারের ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, গবেষণার ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, সাংস্কৃতিক খাতে ৩ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা, স্কাউটের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, উন্নয়নের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, কম্পিউটারের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার, মসজিদ ফান্ডের ৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, অগ্রগতি পত্র বাবদ ৫লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা, মনোগ্রাম বাবদ ৫ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা, এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরন বাবাদ অতিরিক্ত ২৮ লক্ষ ৩ হাজার ১ শত ৬৭ টাকা, কৃষি ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা বাবদ ৮ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র ছাত্রীদের সরকারি অনুদানের ৫ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ করেন। এর প্রমাণ হিসেবে স্কুলের রশিদ ও ব্যাংক এ্যাকাউন্ট সহ নানা তথ্য-উপাত্ত্ব তুলে ধরা হয়।

    এই বিষয়ে সামাজিক সংগঠন-আলোকিত বক্তাবলীর সাধারণ সম্পাদক আঃ আজিজ বলেন, প্রধান শিক্ষক সহ কয়েকজন শিক্ষকের লাগামহীন অনিয়ম দূর্নীতির কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস হয়েছে। বিষয়টির বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

    02বক্তাবলী ইউনিয়ন মাদক নির্মুল কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, অর্থের বিনিময় অযোগ্য, দলীয় লোকদের নিয়োগ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নেওয়া হয়েছে। তিনি অযোগ্যদের বাদ দিয়ে মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী জানান।